bahonbd

সেকেন্ড হ্যান্ড বাইক কেনার গাইড ২০২৬: কী দেখবেন আর নাম পরিবর্তন কীভাবে

Buying a used motorcycle in Bangladesh: inspection checklist, papers and BRTA ownership transfer

আপডেট · পড়তে 9 মিনিট · bahon.bd desk

এই লেখায়
  1. সেকেন্ড হ্যান্ড বাইক কেনা ঠিক হবে কি না, সেটা ঠিক করে চারটি বিষয়
  2. টাকা দেওয়ার আগে বাইকের কী কী চেক করবেন?
  3. দুর্ঘটনার বাইক চিনবেন কীভাবে?
  4. কাগজপত্রে কী মিলিয়ে দেখবেন?
  5. মালিকানা পরিবর্তনে কী কী কাগজ লাগে?
  6. বাইকের নাম পরিবর্তন করতে কত টাকা লাগে?
  7. বিআরটিএতে মালিকানা পরিবর্তন কীভাবে করবেন?
  8. নাম না বদলালে কার কী ঝুঁকি?
  9. দাম ঠিক করবেন কীভাবে?
  10. এক নজরে: কোন অবস্থায় কী করবেন
  11. কখন বিআরটিএ বা মেকানিকের কাছে যাবেন?
  12. FAQ: সেকেন্ড হ্যান্ড বাইক আর নাম পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন

সেকেন্ড হ্যান্ড বাইক কেনা মানে দুটো আলাদা পরীক্ষা। একটা বাইকের, একটা কাগজের। ইঞ্জিন, চেসিস আর দুর্ঘটনার দাগ দেখে নিন, তারপর মিলিয়ে নিন ব্লু বুক বা ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (DRC), চেসিস ও ইঞ্জিন নম্বর আর হালনাগাদ ট্যাক্স টোকেন। টাকা দেওয়ার পর বিআরটিএতে (BRTA) মালিকানা পরিবর্তন বাধ্যতামূলক, সড়ক পরিবহন আইন 2018-এর ধারা 21 অনুযায়ী। ফি হলো বাইকের রেজিস্ট্রেশন ফির তিন ভাগের এক ভাগ, সঙ্গে 15% ভ্যাট আর DRC ফি Tk 555।

সর্বশেষ আপডেট: 23 অক্টোবর 2026। মালিকানা পরিবর্তনের কাগজ আর ফির নিয়ম আমি নিয়েছি বিআরটিএর সিটিজেন চার্টার থেকে (আপডেট 6 মে 2026)। অনলাইন প্রক্রিয়ার তথ্য বিআরটিএর জুন ও সেপ্টেম্বর 2026-এর নির্দেশনা থেকে, যা ঢাকা টাইমস ছেপেছে।

সেকেন্ড হ্যান্ড বাইক কেনা ঠিক হবে কি না, সেটা ঠিক করে চারটি বিষয়

সেকেন্ড হ্যান্ড বাইক যত সস্তাই হোক, এই চারটা প্রশ্নের একটাতেও "না" এলে আমি থামতাম:

  1. বিক্রেতাই কি নিবন্ধিত মালিক? চার্টার অনুযায়ী নাম বদলের সময় ক্রেতা আর বিক্রেতা দুজনকেই বাইকসহ সার্কেল অফিসে হাজির হতে হয়। অনলাইন পদ্ধতিতেও বিক্রেতার আঙুলের ছাপ লাগে। মালিক নিজে না এলে নাম বদলানো যাবে না।
  2. নম্বরগুলো কি মেলে? বাইকের গায়ে খোদাই করা চেসিস আর ইঞ্জিন নম্বর ব্লু বুক বা DRC-র সঙ্গে হুবহু মিলতে হবে।
  3. ব্যাংক লোন আছে কি? কিস্তিতে কেনা বাইকের কাগজে হায়ার পারচেজ (H/P) লেখা থাকে। ব্যাংকের ছাড়পত্র ছাড়া সেই বাইকের নাম বদল আটকে যাবে।
  4. ট্যাক্স টোকেন হালনাগাদ তো? নাম বদলের আবেদনে হালনাগাদ ট্যাক্স টোকেনের কপি চাওয়া হয়। মেয়াদ শেষ হলে আগে নবায়ন।

টাকা দেওয়ার আগে বাইকের কী কী চেক করবেন?

এগুলো সাধারণ যান্ত্রিক পরীক্ষা, যেকোনো ব্র্যান্ডের বাইকে খাটে। আমার পরামর্শ, দিনের আলোয় দেখুন, আর সম্ভব হলে চেনা মেকানিক সঙ্গে নিন।

  • ঠান্ডা ইঞ্জিনে স্টার্ট: বিক্রেতাকে আগে থেকে বাইক চালু করতে মানা করুন। ঠান্ডা অবস্থায় সহজে স্টার্ট নেয় কি না, সেটাই আসল পরীক্ষা।
  • ধোঁয়া: নীলচে ধোঁয়া সাধারণত ইঞ্জিন অয়েল পোড়ার লক্ষণ। ঘন কালো ধোঁয়া মানে জ্বালানি-বাতাসের মিশ্রণে সমস্যা থাকতে পারে।
  • শব্দ: ইঞ্জিনের ভেতর থেকে ঠকঠক বা ধাতব খটখট শব্দ শুনলে মেকানিককে দেখান।
  • ক্লাচ আর গিয়ার: প্রতিটা গিয়ার মসৃণভাবে পড়ে কি না, আর ক্লাচ ছাড়ার সময় বাইক ঝাঁকি দেয় কি না।
  • চেইন-স্প্রকেট: স্প্রকেটের দাঁত ধারালো বা বাঁকা হয়ে গেলে শিগগিরই পুরো সেট বদলাতে হবে।
  • ব্রেক আর টায়ার: ব্রেক প্যাড, ডিস্কের ক্ষয় আর টায়ারের খাঁজ দেখুন। টায়ারের গায়ে উৎপাদনের সপ্তাহ-বছরের কোড থাকে।
  • সামনের ফর্ক: ফর্কের পাইপে তেলের দাগ মানে সিল লিক।
  • ইলেকট্রিক্যাল: হেডলাইট, ইন্ডিকেটর, হর্ন, মিটার আর সেলফ স্টার্ট একে একে চালিয়ে দেখুন।

দুর্ঘটনার বাইক চিনবেন কীভাবে?

বড় দুর্ঘটনার ছাপ লুকানো কঠিন। খেয়াল করুন:

  • ফ্রেমে নতুন ঝালাই বা ফ্রেমের এক অংশে আলাদা রঙ।
  • হ্যান্ডেল সোজা রাখলে সামনের চাকা বাঁকা দেখায় কি না।
  • ট্যাংক, মাডগার্ড বা ফেয়ারিংয়ের রঙ বাকি বাইকের সঙ্গে না মেলা।
  • টেস্ট রাইডে হাত ছাড়া অবস্থায় (নিরাপদ জায়গায়, ধীরে) বাইক এক দিকে টানে কি না।

একটা কথা সত্যি বলতে মানতে হয়। কাগজ নিখুঁত হলেও বাইক খারাপ হতে পারে, আবার বাইক ভালো হলেও কাগজে গোলমাল থাকতে পারে। তাই আমি দুটো পরীক্ষা আলাদা করে করার পক্ষে।

কাগজপত্রে কী মিলিয়ে দেখবেন?

বাইকের চেয়ে কাগজের পরীক্ষা বেশি জরুরি। কারণ নাম বদলানো না গেলে বাইকটা আইনের চোখে আপনার না।

  1. ব্লু বুক বা DRC-র মূল কপি দেখুন। ফটোকপি না, মূল কাগজ। মালিকের নাম বিক্রেতার এনআইডির নামের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।
  2. চেসিস আর ইঞ্জিন নম্বর মেলান। কাগজের নম্বর আর বাইকের গায়ের নম্বর অক্ষরে অক্ষরে এক হতে হবে। ঘষা, নতুন করে খোদাই করা বা ঝাপসা নম্বর হলে কিনবেন না।
  3. নম্বর প্লেট মেলান। পেছনের RFID প্লেটের নম্বর আর কাগজের রেজিস্ট্রেশন নম্বর এক কি না দেখুন।
  4. ট্যাক্স টোকেনের মেয়াদ দেখুন। মেয়াদ শেষ হলে নবায়নের খরচ কে দেবেন, দাম ঠিক করার সময়ই কথা বলে নিন। ফি আর দেরির জরিমানা আছে আমাদের ট্যাক্স টোকেন নবায়ন গাইডে।
  5. H/P লেখা আছে কি না দেখুন। থাকলে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের ছাড়পত্র না দেখে টাকা দেবেন না।

ফিটনেস নিয়ে একটা ভুল ধারণা আছে। বিআরটিএর চার্টার অনুযায়ী ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলে ফিটনেস সনদ লাগে না। নাম বদলের কাগজের তালিকায় ফিটনেস আর রুট পারমিট আছে "প্রযোজ্য ক্ষেত্রে" হিসেবে।

মালিকানা পরিবর্তনে কী কী কাগজ লাগে?

বিআরটিএর সিটিজেন চার্টারে মালিকানা বদলির তালিকাটা এরকম। আমি সাধারণ মানুষের কেনাবেচায় যেগুলো লাগে, সেগুলো রেখেছি:

  • ফরম 20: বিক্রেতার ঘোষণাপত্র। সঙ্গে ফরম 21 (ক্রেতার) আর ফরম 22 (বিক্রির রসিদ)।
  • ফি জমার রসিদের বিআরটিএ কপি।
  • ক্রেতার TIN সার্টিফিকেট আর বর্তমান ঠিকানার ইউটিলিটি বিল।
  • ক্রেতা ও বিক্রেতার এনআইডির সত্যায়িত ফটোকপি।
  • মূল ব্লু বুক (দুই অংশই) অথবা ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট।
  • হালনাগাদ ট্যাক্স টোকেনের সত্যায়িত কপি।
  • হলফনামা: ক্রেতা ও বিক্রেতার আলাদা আলাদা, ছবিসহ, Tk 300-এর নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে।
  • নমুনা স্বাক্ষর ফরম: তিন কপি স্ট্যাম্প সাইজের রঙিন ছবিসহ, ইংরেজি ব্লক লেটারে।
  • লোন থাকলে: ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের ছাড়পত্র, ঋণ সমন্বয়ের বিবরণী আর ব্যাংকের অনুরোধপত্র।

কোম্পানির নামে থাকা বাইক কিনলে হলফনামার বদলে প্রতিষ্ঠানের প্যাডে চিঠি, বোর্ড রেজুলেশন আর অথরাইজেশন লাগে। মোটরসাইকেলের সাধারণ ক্রেতার ক্ষেত্রে TIN সনদ সত্যিই চাওয়া হয় কি না, আবেদনের আগে নিজের সার্কেল অফিসে নিশ্চিত হয়ে নিন। চার্টারের তালিকা সব মোটরযানের জন্য এক।

বাইকের নাম পরিবর্তন করতে কত টাকা লাগে?

চার্টারের মালিকানা বদলির সারিটা আমি লাইন ধরে খুঁজে দেখেছি। মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা কোনো টাকার অঙ্ক সেখানে লেখা নেই। আছে একটা নিয়ম, আর কয়েকটা নির্দিষ্ট ফি:

খাতফিসূত্র
মালিকানা বদলি ফিরেজিস্ট্রেশন ফির 3 ভাগের 1 ভাগ + 15% ভ্যাটবিআরটিএ চার্টার, 6 মে 2026
DRC (ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট) ফিTk 555 (ভ্যাটসহ)বিআরটিএ চার্টার
প্রতিলিপি ফিTk 575 (ভ্যাটসহ)বিআরটিএ চার্টার
H/P প্রত্যাহার (লোনের বাইক হলে)Tk 1,150 (ভ্যাটসহ)বিআরটিএ চার্টার
হলফনামার স্ট্যাম্পTk 300, ক্রেতা ও বিক্রেতা আলাদাবিআরটিএ চার্টার

একটা সহজ ভুল এড়িয়ে চলুন। সেটা হলো নতুন বাইকের রেজিস্ট্রেশনের মোট খরচ (যেমন Tk 9,291 বা Tk 11,764) তিন দিয়ে ভাগ করে ফেলা। ওই মোট অঙ্কে নম্বর প্লেট, DRC আর দুই বছরের রোড ট্যাক্সও ধরা আছে, তাই সেটা ভাগ করলে আসল বদলি ফি পাওয়া যায় না। মূল রেজিস্ট্রেশন ফি আলাদা করে চার্টারে মোটরসাইকেলের জন্য দেওয়া নেই, তাই আমি নিজে কোনো টাকার অঙ্ক বসাচ্ছি না।

অনলাইনে ফি দিলে পেমেন্ট গেটওয়ের চার্জ আলাদা যোগ হয়, চার্টারে সেটা লেখা আছে। নতুন বাইকের পুরো খরচের হিসাব চাইলে দেখুন বাইক রেজিস্ট্রেশন গাইড।

বিআরটিএতে মালিকানা পরিবর্তন কীভাবে করবেন?

এখানে দুটো সূত্র দুই রকম বলছে। মে 2026-এর চার্টার বলছে কাগজ আর ফি জমা দিতে হয় সার্কেল অফিসে, বাইকসহ ক্রেতা-বিক্রেতা দুজনকে হাজির হতে হয়, আর সময় লাগে 1–30 কার্যদিবস। জুন ও সেপ্টেম্বর 2026-এর বিআরটিএ নির্দেশনা (ঢাকা টাইমসে প্রকাশিত) বলছে আবেদন এখন অনলাইনে, আর বিক্রেতার বায়োমেট্রিক যাচাই হলে একই দিনে নাম বদল সম্ভব।

দুটো মিলিয়ে আমার মতে নিরাপদ ধাপগুলো এরকম:

  1. BSP-তে আবেদন করুন। bsp.brta.gov.bd সাইটে মালিকানা বদলির আবেদন করুন, কাগজ স্ক্যান করে আপলোড করুন।
  2. ফি পরিশোধ করুন। পোর্টাল যে অঙ্ক দেখায় সেটাই দিন, রসিদ প্রিন্ট করে রাখুন।
  3. হলফনামা আর ফরম তৈরি রাখুন। Tk 300-এর স্ট্যাম্পে দুজনের হলফনামা, ফরম 20, 21, 22 আর নমুনা স্বাক্ষর ফরম।
  4. বিক্রেতাকে সঙ্গে নিয়ে সার্কেল অফিসে যান, বাইকসহ। বিক্রেতার আঙুলের ছাপ হ্যান্ড-হেল্ড ডিভাইসে যাচাই হয়, আর মোটরযান পরিদর্শক বাইক দেখেন।
  5. নিজের বায়োমেট্রিক দিন। নির্দেশনা অনুযায়ী ক্রেতা একই দিনে বায়োমেট্রিক দিলে নিজের নামে DRC-র প্রক্রিয়া এগোয়।
  6. নতুন কাগজ বুঝে নিন। আপনার নামে DRC না আসা পর্যন্ত রসিদ আর আবেদনের কপি বাইকে রাখুন।

বিক্রেতা আসতে রাজি থাকলে এই পথেই এগোন। বিক্রেতা "পরে করে দেব" বললে পুরো টাকা দেবেন না। বিক্রেতা নিজেই আগের মালিকের কাছ থেকে নাম না বদলে কিনে থাকলে আগে তার নামে বদল হোক, তারপর আপনার।

নাম না বদলালে কার কী ঝুঁকি?

বিআরটিএ জুন 2026-এর নির্দেশনায় বলেছে, নাম না বদলালে আগের মালিকের নামে কর, সারচার্জসহ নানা দায় থেকে যায়, আর জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেখানে অগ্রিম আয়করের কথাও আছে। তবে আয়কর আইন 2023-এর ধারা 153(8) মোটরসাইকেলকে যানবাহনের অগ্রিম আয়করের বাইরে রেখেছে, তাই বাইকের বেলায় ঝুঁকিটা অন্য জায়গায়।

বাস্তবে ঝুঁকিটা মামলায়। ঢাকায় ডিএমপির এআই ক্যামেরা পাইলট নম্বর দেখে মালিকের নামে ডিজিটাল মামলা দেয়। নাম না বদলালে ক্রেতার ভুলের মামলা যাবে বিক্রেতার নামে, আর ক্রেতা আইনত মালিকই না। দুই পক্ষেরই লোকসান।

দাম ঠিক করবেন কীভাবে?

মডেলভিত্তিক সেকেন্ড হ্যান্ড বাইকের দামের নির্ভরযোগ্য তালিকা আমাদের কাছে নেই, তাই আমি কোনো দাম লিখছি না। তবে দর কষাকষির হিসাবটা নিজেই করতে পারেন।

শুরু করুন একই মডেলের নতুন দাম দিয়ে, আমাদের বাইকের তালিকায়। তারপর ভাবুন কী কী খরচ সামনে আছে: চেইন-স্প্রকেট, টায়ার, ব্রেক প্যাড, মেয়াদোত্তীর্ণ ট্যাক্স টোকেন আর নাম বদলের ফি। এই খরচগুলো দাম থেকে বাদ দিয়ে প্রস্তাব দিন। নতুন বাইকের রেজিস্ট্রেশন খরচ কত বাঁচছে, সেটা দেখুন রেজিস্ট্রেশন খরচ ক্যালকুলেটরে।

এক নজরে: কোন অবস্থায় কী করবেন

পরিস্থিতিকাগজের অবস্থাকরণীয়
বিক্রেতাই নিবন্ধিত মালিকনম্বর মেলে, টোকেন হালনাগাদকিনুন, একই সপ্তাহে নাম বদলান
বিক্রেতাই মালিকটোকেনের মেয়াদ শেষনবায়নের খরচ ভাগ ঠিক করে, নবায়নের পর নাম বদল
কিস্তির বাইকH/P লেখা আছেব্যাংকের ছাড়পত্র দেখে, H/P প্রত্যাহার Tk 1,150 ধরে কিনুন
বিক্রেতা মালিক ননকাগজ অন্য কারও নামেআসল মালিক নাম বদলে আসতে রাজি না হলে কিনবেন না
চেসিস বা ইঞ্জিন নম্বর মেলে নাযেকোনোকিনবেন না
রেজিস্ট্রেশন নেইকাগজই নেইকিনবেন না, নাম বদলের কোনো পথ নেই

কখন বিআরটিএ বা মেকানিকের কাছে যাবেন?

কাগজের নম্বর নিয়ে সন্দেহ হলে, বাইক কোম্পানির নামে থাকলে, বা মালিক মারা যাওয়ায় উত্তরাধিকারীরা বিক্রি করছেন, এমন হলে যে বিআরটিএ সার্কেল অফিসে বাইক নিবন্ধিত, সেখানে আগে জিজ্ঞেস করুন। উত্তরাধিকারের বেলায় চার্টারে আলাদা কোনো সারি আমি পাইনি। ইঞ্জিন বা ফ্রেম নিয়ে সন্দেহ হলে সেই ব্র্যান্ডের অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারে একবার দেখিয়ে নিন। খরচটা ছোট, ভুল বাইক কেনার লোকসান বড়।

FAQ: সেকেন্ড হ্যান্ড বাইক আর নাম পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন

বাইকের মালিকানা পরিবর্তন ফি কত?

বিআরটিএর চার্টার অনুযায়ী মালিকানা বদলি ফি বাইকের রেজিস্ট্রেশন ফির তিন ভাগের এক ভাগ, সঙ্গে 15% ভ্যাট। এর সঙ্গে DRC ফি Tk 555, আর লোনের বাইকে H/P প্রত্যাহার Tk 1,150। মোটরসাইকেলের জন্য মোট টাকার অঙ্ক চার্টারে আলাদা করে লেখা নেই, তাই BSP পোর্টালে আবেদনের সময় যে অঙ্ক দেখায় সেটাই চূড়ান্ত।

Bike name transfer koto din lage?

মে 2026-এর চার্টারে সময় লেখা 1–30 কার্যদিবস। বিআরটিএর জুন ও সেপ্টেম্বর 2026-এর নির্দেশনা বলছে, অনলাইনে আবেদন করে বিক্রেতার বায়োমেট্রিক যাচাই হলে একই দিনে নাম বদল সম্ভব। কাগজ সম্পূর্ণ থাকলে কম সময় লাগার কথা।

নাম পরিবর্তনের সময় বিক্রেতাকে কি যেতেই হবে?

হ্যাঁ। চার্টার অনুযায়ী বাইকসহ ক্রেতা ও বিক্রেতা দুজনকে সার্কেল অফিসে হাজির হতে হয়, আর অনলাইন পদ্ধতিতেও বিক্রেতার আঙুলের ছাপ যাচাই করা হয়। বিক্রেতা আসবেন না বললে সেই বাইক না কেনাই ভালো।

সেকেন্ড হ্যান্ড বাইকে কি ফিটনেস সনদ লাগে?

ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলে লাগে না, বিআরটিএর চার্টার অনুযায়ী। নাম বদলের তালিকায় ফিটনেস আছে শুধু "প্রযোজ্য ক্ষেত্রে"। তবে হালনাগাদ ট্যাক্স টোকেনের কপি লাগে।

2nd hand bike kinle ki ki kagoj nite hobe?

মূল ব্লু বুক বা DRC, হালনাগাদ ট্যাক্স টোকেন, বিক্রেতার এনআইডির কপি, স্বাক্ষর করা ফরম 20 ও 22, বিক্রেতার হলফনামা আর বাইকের চাবি। লোনের বাইক হলে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের ছাড়পত্রও নিন।

তথ্যসূত্র

Free bike tools · ফ্রি টুল